খালেদা জিয়া ও শরিফ ওসমান বিন হাদি’র বাংলাদেশের মানুশের রাজনীতি

ইমরুল হাসান 

২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে দুইটা খুবই অন্যরকম ঘটনা ঘটলো বাংলাদেশে! দুইজন মানুশ মারা গেলেন…

একজন শরিফ ওসমান বিন হাদি (জুন ৩০, ১৯৯৩ - ডিসেম্বর ১৮, ২০২৫), ডিসেম্বরের ১৮ তারিখে; উনারে গুলি করা হইছিল ডিসেম্বরের ১২ তারিখে, ঢাকার ফকিরাপুলের রাস্তায়, শুক্রবার দিন দুপুরে, জুম্মার নামাজের পরে… উনারে বাঁচানোর চেষ্টা করা হইছিল, প্রথমে ঢাকায়, পরে সিঙ্গাপুরে নিয়া যাওয়া হইছিল, কিনতু উনারে বাঁচানো যায় নাই, উনার জানাজার নামাজে হাজার হাজার লাখ লাখ মানুশ শামিল হইছিলেন! (বইলা রাখা ভালো, উনার খুনের বিচার এখনো হয় নাই!)

উনি সোশাল মিডিয়াতে একটা পপুলারিটি গেইন করতেছিলেন, ২০২৪-এর জুলাই আপ-রাইজিংয়ের পরে, নানান রকমের পাবলিক প্লাটফর্মে উনার কথাও অনেকে পছন্দ করতেছিলেন, কিনতু উনার এই পপুলারিটি যে এইরকমের একটা একস্ট্রা-অর্ডিনারি ফেনোমেনা ছিল, এইটা কেউ আন্দাজ করতে পারে নাই, উনি গুলি খাওয়ার আগ পর্যন্ত! এখনো, উনারে ছোট করার, বা আন্ডারমাইন করার যেই টেনডেন্সি আছে, সেইটা এই না-বুঝতে-পারার জায়গা থিকাই আসে যে, উনি কি এমন করছিলেন? কেন লোকজন তারে এতোটা আপন কইরা নিছিল?

(ওয়েল, এই আলাপে একটু পরে আসতেছি, তার আগে সেকেন্ড ঘটনাটাও একটু মেনশন করে রাখি…)

সেকেন্ড ঘটনা হইতেছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে খালেদা জিয়াও (অগাস্ট ১৫, ১৯৪৫ - ডিসেম্বর ৩০, ২০২৫) মারা গেছিলেন; কিনতু উনি শরিফ ওসমান বিন হাদি’র মতো নিউ-ফিগার ছিলেন না, উনি বাংলাদেশের দুইবারের প্রাইম মিনিস্টার ছিলেন (১৯৯১-১৯৯৬, ২০০১-২০০৬), শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের (জানুয়ারি ১৯, ১৯৩৬ - মে ৩১, ১৯৮১) ওয়াইফ এবং  এখনকার প্রাইম মিনিস্টার তারেক রহমানেরও মা… উনার একটা লম্বা পলিটিকাল ইতিহাস আছে, যেইটা শুরু হইছিল মোটামুটি ১৯৮৩ সাল থিকা!

জিয়াউর রহমান মারা যাওয়ার ইমিডিয়েট পরেই উনি পলিটিকসে জয়েন করেন নাই, বরং যখন এরশাদ পিপলের ভোটে নির্বাচিত বিএনপি’র প্রেসিডেন্ট আবদুস সাত্তার'রে ক্ষমতা থিকা সরায়া দেয়, তখন খালেদা জিয়া বিএনপি'তে জয়েন করেন, এবং উনার রাজনীতি শুরু করেন! রাজনীতিতে অনেক চরাই-উতরাই উনি পার হইছেন, ২০১৮ সালে জেলে যাওয়ার পরে ধইরা নেয়া হইছিল উনার পলিটিকাল ক্যারিয়ার-ই শেষ!

কিনতু বাংলাদেশের ইয়াং জেনারেশনের কাছে উনি হয়া উঠছিলেন বাংলাদেশের পলিটিকাল আইকন! যেই কারনে ২০২৪-এর পিপল-আপরাইজিংয়ের পরে ফার্স্টে উনারে মুক্ত করা হয়; কিনতু ধারনা করা হয় জেলখানাতে স্লো-পয়জনিং এবং প্রপার মেডিকেল ট্রিটমেন্ট না দেয়ার কারনে উনার শরীর আরো খারাপ হইতে শুরু করে, এবং ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের ৩০ তারিখে, উনি মারা গেছেন বইলা জানানো হয়, এবং উনার জানাজার নামাজেও হাজার হাজার লাখ লাখ মানুশের জমায়েত হয়!

খালেদা জিয়ার বেপারেও এইরকমের জায়গা আছে যে, অনেকে বুঝতে পারেন না :) (মানে, বুঝতে রাজি না আসলে) যে, খালেদা জিয়ার গ্রেটনেসটা কোথায়? কেন উনি এতো পপুলার ছিলেন? এবং সবসময় হাসিনার সাথে কম্পেয়ার কইরা খালেদা জিয়া'রে এইট-পাশ, পেন্সিল দিয়া ভ্রু আঁকা… এইরকম ডিমেনিং করা হইছে!

মানে, খালেদা জিয়া এবং ওসমান হাদি'রে বাংলাদেশের মানুশ-জন অনেক পছন্দ করছে, ভালো-বাসছে, এবং নিজেদের মানুশ বইলা ভাবছে, কিনতু কেন বা কি কারনে এই ঘটনা’টা ঘটছে? বা অন্য অনেক পাবলিক-ফিগারের বেপারে কেন এইটা ঘটে নাই? এই জিনিসগুলা নিয়া আলাপ-আলোচনা নাই আসলে তেমন একটা!

তো, কেন নাই, বা কিভাবে এই আলাপগুলা শুরু হইতে পারে, তার একটা আউটলাইন-ই আমি সাজেস্ট করতে চাইতেছি এই লেখায়, যদিও আলাপ তো আরো অনেক লাইনেই শিফট করবে আসলে…

২.

আগে উনাদের রাজনীতির জায়গাগুলা দেখি –

খালেদা জিয়া ট্রেডিশনাল পলিটিশিয়ান ছিলেন না, উনি ধিরে ধিরে বাংলাদেশের পলিটিকাল কালচারের লগে এলাইনড হইছেন; এই সাব-কন্টিনেন্টের অন্য দেশগুলাতেও – ইনডিয়া, পাকিস্তান, শ্রিলংকা ও মায়ানমারে যেইরকম হইছে যে, কোন নেশনাল লিডার মারা গেলে তার বউ, মেয়ে, ছেলে বা ফ্যামিলি-মেম্বার’রা সেই দলের লিডারশিপ পজিশনে আসছেন… তো, এইটারে ভালো বা খারাপের চাইতে একটা ট্রেডিশন হিসাবে দেখতে পারাটাই বেটার…

তো, জিয়াউর রহমানের বিএনপি'র সাথে খালেদা জিয়ার বিএনপি'র ডিফরেন্স হইতেছে যে, জিয়াউর রহমানের বিএনপি সবসময়ই ছিল সরকারি-দল, আর খালেদা জিয়া উনার রাজনীতি শুরু করছেন বিরোধি-দল হিসাবে! আর বাংলাদেশে রাজনীতি সবসময় ইকনোমিক বেনিফিটের লগে রিলেটেড জিনিস; কোন পলিটিকাল দল কইরা আপনি যদি কোন ইকনোমিক বেনিফিট না পাইতে পারেন (বর্তমান সময়ে হোক বা ফিউচারে), সেইটা কোন পলিটিকস-ই না আসলে!

এখন, বিরোধি-দলে থাকলে সমাজে একটা নাম-ডাক থাকে, কিছু সামাজিক সুবিধাও পাওয়া যায়, কিনতু ইকনোমিকালি তো কম-বেশি সাফার-ই করা লাগে বা ইনভেস্টমেন্ট-ই করা লাগে, যেইটার রিটার্ন ফিউচারে আসবে কিনা – অনেকটা আন-সার্টেন ঘটনাই; যার ফলে, বাংলাদেশে বিরোধি-দল থাকে না তেমন, থাকে বরং – ‘সরকারি দল, ইন ওয়েটিং’! যে, ফিউচারে উনারা রাষ্ট্র-ক্ষমতায় আসবেন!

খালেদা জিয়া বিএনপি'রে অই হোপ'টা হইতে পারছিলেন যে, উনি দল’রে লিড দিলে বিএনপি রাষ্ট্র-ক্ষমতায় আসতে পারবে আবার! এবং ১৯৯১ সালে উনি বিএনপি'রে নিয়াও আসতে পারছিলেন! মানে, খুব বেশিদিন ক্ষমতার বাইরে থাকতে হয় নাই বিএনপি'রে, ৭-৮ বছর থাকতে হইছে… ১৯৯৬’র পরেও ৫ বছর ছিল ক্ষমতার বাইরে, কিনতু ২০০৭’র পরে প্রায় ১৮ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকতে হয়, এবং খালেদা জিয়ার পলিটিকাল ক্যারিয়ারও এপারেন্টলি শেষ হয়া যায় তখন!

কিনতু অই ‘পতনের সময়'টাতেই উনার গ্রেটনেসের জায়গাটা বাংলাদেশের মানুশ-জন ফিল করতে থাকেন বইলা আমি মনে করি!

অই গ্রেটনেস হইতেছে, খালেদা জিয়া শুধু মুখের কথা'তে না, উনার কাজ-কর্মে, পলিটিকাল পজিশন ও ডিসিশান-মেকিংয়ে বাংলাদেশের মানুশ-জনরে সেন্টার পজিশনে রাখছিলেন, ইভেন উনার পলিটিকাল ক্যারিয়ার কুরবানি দিয়াও এই কাজ করছিলেন! এবং যত দিন গেছে, সেইটা স্পষ্ট হইতে পারছে!

বিএনপি'র লোকজন অবশ্যই ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য রাজনীতি করছে, এবং ক্ষমতা ধইরা রাখার রাজনীতি করছে, কিনতু খালেদা জিয়া’র কাছে ক্ষমতায় যাওয়াটাই একমাত্র ঘটনা ছিল না বইলা বাংলাদেশের মানুশ ভাবতে পারছে… কারন, উনি যে জেলে গেলেন, স্যাক্রিফাইসগুলা করলেন, কেন করলেন? এইটার কোন উত্তর তো হয় না, এইটা ছাড়া যে, উনি বাংলাদেশের মানুশের ভালো চাইছেন!

একজন পলিটিকাল লিডারের কাছে মানুশ এইটা এক্সপেক্ট করে না যে, উনি খাওয়াবেন-পরাবেন, বরং সমাজের ও দেশের মানুশের যাতে খারাপ কিছু না হয়, সেই সামস্টিক জায়গাগুলাতে খেয়াল রাখবেন! আপনার পলিটিকাল পলিসি ভুল হইতে পারে বা ঠিক হইতে পারে, কিনতু পলিটিকাল ইনটেনশন'টা পিওর কিনা – সেইটা হইতেছে খেয়াল করার জায়গাটা! আর এইখানে খালেদা জিয়া সেই ইনটেনশন অনেকবার-ই শো করতে পারছেন!

এখন, ওসমান হাদি'র কথা'তে যদি আসেন, উনার পাবলিক-লাইফ খুব অল্প সময়েরই ছিল, এক-দেড় বছরের! কিনতু সোশাল-মিডিয়ার কারনে এখনকার সময়টা তো অনেক ইনটেনস! সবকিছু অনেক দ্রুত ছড়ায়া পড়তে পারে, হাদি'র কথাগুলাও অনেক দ্রুত ছড়ায়া পড়তে পারছিল!

উনি জুলাইয়ের পরে নাগরিক কমিটিতে ছিলেন কিছুদিন, কিনতু এনসিপি'তে জয়েন করেন নাই; জামাত-পন্থি লোকজন উনার ইন্সটিটিউশন ইনকিলাব মঞ্চে ফিনান্সিয়ালি অনেক কন্ট্রিবিউট করছিল বইলা শোনা যায়, কিনতু উনি যখন ঘোষনা দিছিলেন যে, ঢাকা-৮ পার্লামেন্টারি আসন থিকা ইলেকশন করবেন তখন তো জামাতের জন্য সেইটা পলিটিকালি আন-ইজি ঘটনাই হয়া উঠার কথা… আর বিএনপি'তে যেই লম্বা লাইন সেইখানে জয়েন করার কোন আলাপও শোনা যায় নাই কখনো!

মানে, উনার একটা লোনলি পলিটিকালি জার্নি ছিল, পলিটিকাল পার্টিগুলার বাইরে থাইকাই একটা পলিটিকাল ফিগার উনি হয়া উঠতেছিলেন, যেইটা সব পলিটিকাল পার্টির জন্য কম-বেশি সমস্যার জিনিস ছিল… কিনতু উনারে এভেয়ড করা যাইতেছিল না, কারন পিপলের কাছে উনার একসেপ্টেন্স বাড়তেছিল, এবং এতোটাই যে, উনি একটা ফেনোমেনা হয়া উঠতেছিলেন, বিএনপি-জামাত-এনসিপি সব পার্টির মধ্যেই উনার ফ্যান-ফলোয়ার বাড়তেছিল!

বাংলাদেশের মানুশ উনারে পছন্দ করতেছিল এই কারনে যে, উনি তো বাংলাদেশের মানুশের পক্ষে কথা বলতেছেন! এবং এইরকমের মানুশ বাংলাদেশে খালি রেয়ার-ই না, একদম নাই-ই আসলে! যে, যারা পাবলিক প্লেইসে কথা বলেন, এবং কোন আদর্শ বা আইডিওলজি, কোন দলের বা ক্ষমতাবান কোন না কোন গ্রুপের ফেভারে কথা বলেন না - এইটা খুবই রেয়ার! বা নিজের ‘পাওনা’ পারসোনাল বেনিফিট কম-বেশি বুইঝা নেন না, তার সামাজিক প্রতিপত্তির বিনিময়ে!

আমি বলতে চাইতেছি, খালেদা জিয়া ও শরিফ ওসমান বিন হাদি, বাংলাদেশের আপামর জন-সাধারনের পছন্দের এবং ভরসার জায়গা হয়া উঠতে পারছিলেন, কারন মানুশ-জন ভাবতে পারছে যে, উনারা বাংলাদেশের মানুশের জন্য রাজনীতি করছেন, কথা বলছেন এবং কাজ করছেন! এইটা হইতেছে উনাদের মিলের জায়গাটা, এবং দুইজনে এই জায়গা থিকাই বাংলাদেশের মানুশের ভালোবাসা পাইছেন!

৩.

তো, ‘বাংলাদেশের মানুশ’ কারা? কোন আইডেন্টিটিতে তারা বিলং করেন? এইটা হইতেছে সবচে ক্রুশিয়াল কোশ্চেনটা এই আলাপে…

ব্রিটিশ আমলে, পাকিস্তান পিরিয়ডে, এমনকি স্বাধিন বাংলাদেশেও যাদের মিনিমাম একটা ইকনোমিকাল ও  কালচারাল পাওয়ার আছে তাদেরকেই আমরা পলিটিকালি ‘মানুশ’ বইলা ভাবতে রাজি আছি! মানে, ধরেন কারো কোন ‘শিক্ষা-দীক্ষা’ নাই বা মোটামুটি লেভেলের টাকা-পয়সা নাই, তাদের কথার কি দাম আমরা দিবো? বা তাদেরকে কি ‘মানুশ’ বইলা মনে করতে পারবো? ওয়েল, গরু-ছাগল তো আর মনে করবো না, কিনতু অইভাবে তাদের এগজিসটেন্সও থাকে না আসলে আমাদের কথায় ও আলাপ-আলোচনায়; বরং যারা আমাদের ইকনোমিক ও কালচারাল জায়গাগুলাতে গুরুত্বপূর্ন তাদেরকেই ‘মানুশ’ ভাইবা কথা বলি আমরা! যদিও অস্পষ্ট ও ইনভিজিবল একটা জায়গারেই আমরা মিন করি ‘বাংলাদেশের মানুশ’ বইলা, কিনতু অই অস্পষ্টতার আড়ালে একটা ফোকাসড-অডিয়েন্সরেই প্রায়োরিটি দিতে থাকি…

তো, অই ফোকাসড-অডিয়েন্সরে আমি বলতে চাই ‘ডামি-জনগন’! যারা একটা ছোট্ট, কিনতু পাওয়ারফুল মাইনরিটি, যেই সার্কেলের বাইরে বাংলাদেশের মানুশ নাই না, বরং অই সার্কেলের বাইরের মানুশদেরকে ‘ইনভিজিবল’ কইরা রাখার একটা ঘটনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে ও চিন্তায় খুব ভালো-ভাবে আছে!

আমার কথা হইতেছে খালেদা জিয়া এবং শরিফ ওসমান বিন হাদি অই ‘ইনভিজিবল’ জনগনকে তাদের রাজনীতিতে ইনক্লুড করতে পারছিলেন, যারা বাংলাদেশেরই মানুশ, কিনতু ‘বাংলাদেশের মানুশ’ হিসাবে ইনক্লুডেড ছিলেন না! উনারা ‘বাংলাদেশের মানুশ’ বলতে যা বুঝানো হয় তার আওতা'টারে বড় কইরা তুলতে পারছিলেন! মিউট কইরা রাখা মানুশদের ভয়েস উনারা হয়া উঠতে পারছিলেন! যেই কারনে, বাংলাদেশের মানুশও তাদেরকে নিজেদের মানুশ বইলা ভাবতে পারছিলেন!

এখন, কিভাবে সেইটা পারছিলেন? সেইটা আরেকটা লম্বা আলাপই হওয়ার কথা, আমি জাস্ট একটা উদাহারনের কথা বলি…

দেখবেন, এ কে ফজলুল হক'রেও বাংলাদেশের মানুশ অনেক পছন্দ করতো, ভালোবাসতো; তার কারন খালি এইটা না আর যে, উনি মানুশ-জনের সাথে মিশতে পারতেন, বরং উনার যখন ক্ষমতা ছিল তখন উনি ২-৪টা কাজ করছেন, যেমন সরকারি চাকরিতে মুসলমানদের কোটা রাখছেন, মহাজনি সুদ কমানোর আইন করছেন, যেইটার আল্টিমেট বেনিফিট বাংলাদেশের মুসলিম জনগোষ্ঠি পাইছে! কৃষক-সমাজ থিকা শিকখিত-মধ্যবিত্ত সমাজে নিজেদেরকে ট্রান্সফর্ম করতে পারছে যেই সময়টাতে সেইখানে ফজলুল হক সাহেবের কন্ট্রিবিউশন আছে; এমনকি বাংলাদেশের মুসলমান'রাই খালি চাকরি পাইছে - বেপারটা এইরকম না, বরং যেহেতু মুসলমান হইলে চাকরি পাওয়া যায় - এই কারনে বিহারের লোকজনও বাংলাদেশে মাইগ্রেট করছে আসলে... (যা-ই হোক, সেইটা তো আরেকটা আলাপই, একভাবে)

তো, খালেদা জিয়া’র  রাজনীতিতেও কোর জায়গাটা দেখবেন উনি বাংলাদেশর মুসলমানদেরকে ‘আদার’ করতে রাজি হন নাই, এবং ওসমান হাদিও এই ‘বাংলাদেশি’ ‘মুসলমান’রে উদ্দেশ্য কইরাই উনার কথাগুলা বলতেছিলেন…

‘ভালো’ বাংলা-সাহিত্যে এই জিনিসটা দেখবেন যে, অনেক গুরু-গম্ভির, অহেতুক জটিল শব্দ ইউজ করা হয় জিনিসটারে ‘সাহিত্য’ কইরা তোলার জন্য; তো, সেইটার উদ্দেশ্য আসলে ‘ভালো-সাহিত্য’ হয়া উঠা না, বরং এমন একটা অডিয়েন্সরে উদ্দেশ্য কইরা বলা যারা এইটা ‘বুুঝবে’, এবং ‘শিকখিত’ বইলা বুঝবে!

তো, খালেদা জিয়া এবং শরিফ ওসমান বিন হাদিও এই ঐতিহাসিক ভুলের বাইরে ছিলেন, এবং এর বাইরে গিয়াই নিজেদের রাজনীতি করছেন, এবং এইটা করতে গিয়া ‘বাংলাদেশের মানুশ’ বইলা বিশাল একটা অডিয়েন্সরে উনারা এপ্রোচ করতে পারছিলেন, তাদের আস্থাভাজন হইতে পারছিলেন!

এখন, আমি ঠিক শিওর না, আমার বলার জায়গাটা ঠিক স্পষ্ট করতে পারলাম কিনা… মানে, আমার ক্লেইম'টা বেশ সিম্পলই, যে, খালেদা জিয়া এবং শরিফ ওসমান বিন হাদি'রে বাংলাদেশের মানুশ অনেক পছন্দ করছে ও ভালোবাসছে, কারন উনারা এই ‘বাংলাদেশের মানুশ'-এর পক্ষে কথা বলছেন, উনাদেরকে ইনক্লুড কইরা রাজনীতি করছেন!

আর এইটা অনেক সহজ জিনিস মনে হইতে পারে, কিনতু বাংলাদেশে এইরকমের উদাহারন যে খালি কমই না, এতো কম যে, রীতিমতো হাতে-গোনা যায় আসলে!