Against Indian Hegemony: In Memory of Osman Hadi and Khaleda Zia

Image credit Paul Hoi

 

১২ ডিসেম্বর, ২০২৫ ঈসায়ী, বাদ জুমা, ঢাকায় আধিপত্য ও দখলদারী লাশতান্ত্রিক অক্ষের গুলিতে জুলাই বিপ্লবী শরীফ ওসমান বিন হাদি "হুসাইনি শহীদি কাফেলায় " শরিক হয়। হাদির লাশ তখনো জ্যান্ত ছিল। হাদি একদম শেষ সময়ে কি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলতে পেরেছিলেন? অথবা ঠিক কোন মানুষটার মুখ তার মানসপটে ভেসে উঠেছিল জীবন মৃত্যুর সেই সন্ধিক্ষণে? পেয়ারী শিশু সন্তানের, অথবা স্ত্রীর, নাকি যার পায়ের তলায় জান্নাত, সেই মহীয়সীর? আবার একদম কারো কথা মনে নাও আসতে পারে শাহাদাতের সেই মাহেন্দ্রক্ষনে। হতে পারে রাষ্ট্রীয় আত্মার যেই ক্ষত সাড়ানোর নিয়তে এত বড় লড়াইয়ে সামিল হয়েছেন, সেই নিয়তের প্রতিধ্বনিই শুনতে পাচ্ছিলেন হয়তো। এমনকি মহীয়সী আম্মার পায়ের তলার জান্নাত মূর্ত হবার খবর উনার জান কবজের সময়ে যেই অশরীরি সত্ত্বা দিয়েছিলেন, তাঁকেই দেখে থাকবেন হয়তো। হয়তো আবু সাইদ, ওয়াসিম, আলিফ, আবরার, রেহান, মুগ্ধ হয়ে শাপলার শহীদ তালেবে এলেম, পিলখানার সেনাবাহিনীর সেই শহীদ অফিসাররা তার জন্য যে শহীদি এস্তেকবালের আয়োজন করছেন তা দেখছিলেন৷ কিন্তু আমরা এসব কোন কিছুই ইন্দ্রিয়তার ভিতর আর ধরতে পারবো না। হাদিকে যখন কাফনের সজ্জায় আনা হলো তখন মনে হচ্ছিলো যে একটা জীবিত লোক এমনি একটা সাদা চাদর মুড়ে চিৎ হয়ে বিশ্রাম নিচ্ছেন ভাতঘুম দুপুরে। আর একটু পরেই হুট করে উঠে পড়বেন । তবে হাদির লাশ মোড়ানো সাদা কাফনটা যেন থেকে থেকে ব্যাকুল হয়ে চারদিকের সকলের সাথে কথা বলতে চাইছিলো। উপস্থিত হাজেরীন থেকে থেকে তাকাচ্ছিলো কাফনের দিকে। কাফনটা কি লাশের নিঃশ্বাসে একটু একটু ফুলে উঠছিলো? সেই লাশের রুহের রোশনী যেন সকলের ভিতরে প্রবেশ করেছিলো? সেইখানে উপস্থিত ছিলেন অথবা অনুপস্থিত। হাজির লাশের অধিকারী যিনি- বিগত তিনি। আর আমরা স্বপ্রানেই হাজির। যেই অর্থে কোন নুড়ি বা পাথর অথবা হাতের নাগালে পরে থাকা কোন বস্তু প্রানহীন, সেভাবে লাশ তো নির্জীব না। বস্তুরাজি তো কখনোই জীবিত ছিল না, কিন্তু লাশ তো লাশ হবার ঠিক আগেও ছিল প্রানবন্ত । জর্মান দর্শনগুরু মার্টিন হেইদগর তাঁর “Being and Time” এ অস্তিত্ত্বের অন্বেষনে ছড়িয়ে দিয়েছেন মরন ভাবের এই আলাপ। উনি দেখালেন নিস্প্রান লাশের হাজিরা কিভাবে জিন্দা মরদদেরও ঠেলে দেয় অস্তিত্বের অতলান্তে। মৃত্যুর স্বাদের বর্ননা বা বয়ান তৈরি যেহেতু অসম্ভব, সেহেতু জন্মানোর পরেই ক্রমাগত মৃত্যুর দিকে ঝুঁকে পড়া জীবনই মানুষের উপজীব্য। জীবনের কথা তাই মৃত্যুরই প্রস্তুতি। একজন মুসলিম হিসাবে অস্তিত্ত্বের মর্মজিজ্ঞাষাকে (Ontology) এড়ানোর আর কোন উপায় থাকে না হাদির লাশের জাহিরি অবয়বের সামনে। তাই শহীদ হাদির মরন আপন মরনের রুপকল্পে পরিনত হয়। খাঁটি অস্তিত্বময়তার (Authentic Da-sein) অংশ হিসাবেই তখন তা প্রতিভাত হয়ে উঠে। শহীদ যেন সতীর্থ গাজীর জবানে কথা কয়ে উঠেন। শহিদ হাদির লাশেরও আত্মপরিচয় আছে। আর তা হলো “মুসলিম”। যার কর্তাসত্ত্বার (Subjectivity) উৎসে থাকে অস্তিত্ত্বের মর্মজিজ্ঞাষা (Ontology)। এই মর্মের বিনিসূতাতেই বাঁধা থাকে মুসলিমদের জীবন থেকে মরন। সাচ্চা মুসলিম তার যাপিত জীবনকে অন্য সব কিছু থেকে আলাদা করে স্বত্তা বিচ্ছিন্ন জীবন (Inauthentic Dasein) বেছে নিতে চায় না। ঠিক এই কারনেই একজন মুসলিমের অস্তিত্ত্বময়তার রোশনী যদি তার কর্তা সত্তায় সঠিক ভাবে প্রতিফলিত হয়, তবে ঐতিহাসিক কর্তাসত্ত্বা (Subjective self) হিসাবে তার যাপনে ও রাজনৈতিকতায় সেক্যুলারাইজেশন ( ধর্মীয়তাকে বিচ্ছিন্নকরন) এবং ডিথিওলাইজেশন (নিধর্মীকরন) অসম্ভব হয়ে উঠে। সাচ্চা মুসলমানের এই নিয়ত সমাজে তার অপর একাংশের কাছে অসহনীয় মনে হয়। সাচ্চা মুসলমানের জীবন আর প্রানকে তখন তারা নিজের জীবন আর প্রানের অস্তিত্ত্বের জন্যে হুমকি মনে করতে থাকে। দ্বন্দ্ব সংঘাত তখন অনিবার্য হয়ে উঠে। হাদি শব্দের অর্থ পথপ্রদর্শক বা রাহাবার। জুলাইয়ের অস্তিতত্ব ধারণ করে কীভাবে চলতে হবে তার সবক দেন হাদি। জুলাইয়ের বহু শরিক৷ একক মালিকানা নেই। জুলাই যদি একটা Event বা ঘটনাচক্র হয় তাহলে হাদি হলো সেই ঘটনাচক্রের নয়া কর্তা ও নয়া অস্তিতত্ব। জাতীয় জীবনের হাদির ন্যায় নয়া কর্তা ও নয়া অস্তিতত্বের সঙ্গে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহানিয়াতের রিশতা। আধিপত্য - আগ্রাসন ও সম্প্রসারণবাদী নীতির বিরুদ্ধে বেগম জিয়ার সংগ্রাম, দেশের স্বাধীনতা - সার্বভৌমত্ত্বের প্রশ্নে আপোসহীনতা, বাকশালি ফ্যাসিবাদী লুটেরা মাফিয়া লাশতান্ত্রিক অক্ষের বিরুদ্ধে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় লড়াকু ও অভিভাবকত্ত্বের পথ ধরেই হাদি আমাদের ইমাম হয়েছেন। জান দিব কিন্তু স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ত্ব বিকিয়ে দিব না। দক্ষিণ এশিয়ায় ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে যদি ফ্যাসিস্ট হাসিনার রিশতা করা যায়, তাহলে আইয়ুবশাহীর বিরুদ্ধে লড়াকু ফাতিমা জিন্নার সঙ্গে বেগম জিয়ার ঐতিহাসিক সম্পর্ক চিহ্নিত করা যায়। "হাদি-বেগম জিয়াকে নিয়ে" মাইলস্টোন জার্নালের প্রতিফলিত সংখ্যায় " হাদি ও বেগম জিয়ার আধিপত্যবাদ ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ, ইনসাফ ও হক নিশ্চিতকরনের মেহনত, রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রুপান্তরের তাগাদা, ঐতিহ্যের ধারণ, পূর্বজদের সিলসিলা, শাহাদাতের তামান্না, ইনকিলাব ও ঈমানের নিশান নিয়ে শরিকানার রাষ্ট্র গঠনের প্রতিফলন দেখা যাবে, যা বাংলাদেশের ও একই সঙ্গে দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার জনগনের মুক্তির আলোকবর্তিকা হবে ইনশাআল্লাহ।