জুলাইয়ের সম্মুখযোদ্ধা শহীদ ওসমান হাদি: মুসলিম সত্তার রাজনৈতিক কণ্ঠস্বর
শহীদ ওসমান হাদী জুলাই বিপ্লবের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিসরে উদ্ভূত এক গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠ, যিনি মুসলিম পরিচয়, ন্যায়ভিত্তিক রাজনীতি এবং সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার প্রশ্নকে নতুনভাবে বিন্যস্ত করেন। মাদ্রাসা শিক্ষা, সুফি ঐতিহ্য (বিশেষত ছারছীনা ধারার প্রভাব) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বৌদ্ধিক পরিসরের অভিজ্ঞতা তাঁর চিন্তাকে একটি অনন্য রূপ দেয়। তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে ইসলামী নৈতিকতা, শরিয়াহ ও তাসাওউফের ধারণাকে আধুনিক রাজনৈতিক ভাষায় অনুবাদ করে একটি বিকল্প নাগরিক সমাজের বলয় তৈরি করা যায়। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ইনকিলাব মঞ্চ ছিল জুলাই আন্দোলনের “স্পিরিট” জিন্দা রাখা, পূর্ববাংলার স্বকীয় মুসলিম সংস্কৃতি এবং রাজনৈতিকতার পুনরুদ্ধার ও আঞ্চলিক আধিপত্যের বিরুদ্ধে অবস্থান এসব মিলিয়ে এক নতুন রাজনৈতিক বয়ান। তাঁর চিন্তার কেন্দ্রে ছিল ইনসাফ যা এনলাইটেনমেন্টের ব্যক্তিকেন্দ্রিক অধিকার নয়, বরং ইসলামী মূল্যবোধে অনুপ্রাণিত সামাজিক দায়বদ্ধতা, নৈতিক শাসন এবং সামষ্টিক ন্যায়ের ধারণা। জুলাইয়ের নয়, হাদি ছিলেন শাপলার সন্তান। যুদ্ধাপরাধের বিচারের নামে প্রহসন, আল্লামা সাইদীর মামলার রায়ের দিন শ’য়ের উপর ইসলামপন্থীদের হত্যা, ৫ই মে শাপলা চত্বরে মাদ্রাসা ছাত্রদের উপর চালানো গণহত্যা এবং পরবর্তীতে মোদির বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদ মিছিলে ২২ জনকে হত্যা, শহীদ আবরার এবং সর্বশেষ আবু সাইদের শাহাদাত এই অঞ্চলের কোটি কোটি মুসলিমদের মতন শহীদ ওসমান হাদীকেও গভীরভাবে আলোরিত করেছে। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর শহীদ ওসমান হাদী তাঁর শাহাদাতের মধ্য দিয়ে এই ঐতিহাসিক সিলসিলায় নিজের নাম যুক্ত করলেন। হাদীর এই ঐতিহাসিক গুরত্ব ও সমকালীন এবং ভবিষ্যত মুসলিম রাজনীতিতে হাদীর প্রাসঙ্গিকতার আলোকে সঞ্চারণ “*জুলাইয়ের সম্মুখযোদ্ধা শহীদ ওসমান হাদি: মুসলিম সত্তার রাজনৈতিক কণ্ঠস্বর*” এই আলোচনার আয়োজন করে এবং এই বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় রেখে মাইলস্টোন্সে তা পুনঃপ্রকাশ করা হল।
Read More